ফিলিপাইনে বৃহৎ ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত

দক্ষিণ ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার তীব্রতা মাত্রায় রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৮। এতে কমপক্ষে ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই ভূমিকম্পের ফলে ফিলিপাইনস ছাড়াও ইনডোনেশিয়া ও জাপানে ক্ষুদ্র সুনামি তরঙ্গ উঠে।

স্থানীয় সময় হঠাৎ এক প্রবল ভূমিকম্পের ঝড়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ ফিলিপাইনের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র মূলত ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটি বিস্তারশীল এবং অনুভূতিতে ছিল অত্যন্ত মারাত্মক। এই দুর্দান্ত সংকট মুহূর্তে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধার দল তৎপর হয়ে ওঠে।

ভূমিকম্পের আঘাতে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নির্মাণকৃত অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামোও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে। জরুরি সেবা চালু রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে বিশেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে এবং ঘর-বাড়ি হারানো মানুষের ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে, ভূমিকম্পটি টেদিওমড ড্রাইভারে ৭.৮ মাত্রার হিসাব প্রকাশিত হওয়ার পর সমুদ্র তলদেশে কাঁপন হলে তত্ক্ষণাতই ক্ষুদ্রমাত্রার সুনামি তরঙ্গ তৈরি হয়। এই সুনামি তরঙ্গ ফিলিপাইনসেই সীমাবদ্ধ না থেকে পাশের ইনডোনেশিয়া ও জাপানের তীরবর্তী অঞ্চলেও অনুভূত হয়েছে। তবে এই সুনামি তরঙ্গ খুব উচ্চ নয় এবং কোন বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া যায়নি।

ফিলিপাইনস ভূমিকম্প প্রবণ একটি অঞ্চল, যেখানে তেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ ও চলাচলের কারণে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। এই ভূমিকম্পটির আঘাত পূর্ব ইতিহাসের বেশ কিছু মহাবিপর্যয়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। অতীতেও একই এলাকার মানুষ বহু উল্লেখযোগ্য প্রকৃতিবিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে, যার ভিতর অন্যতম ১৯৯০ সালের লুঝন ভূমিকম্প এবং ২০১৩ সালের বোহোল ভূমিকম্প।

সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, পরবর্তী সময়ে আরও ছোটখাটো কম্পন বা বাইম্পকনের সম্ভাবনা থেকে যায়, যেগুলো মানুষের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে সুনামি সতর্কতা মেনে চলার জন্য এবং নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ টিমগুলো মোতায়েন করা হয়েছে এবং জরুরি সাহায্য পৌঁছে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে যে, ভূমিকম্পের প্রভাব এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা কিছু সময় বন্ধ থাকে, যা নতুন সংকট সৃষ্টি করে। তবে দ্রুত কাজ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন হামেশাই জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে এবং ধৈর্য্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে।

এই ভূমিকম্পের পরে আন্তর্জাতিক কমিউনিটির প্রতিক্রিয়াও এসেছে, যেখানে বিভিন্ন দেশসহ আঞ্চলিক সংস্থাগুলি ফিলিপাইনে সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সর্বোপরি কেন্দ্রীয় সরকার এ জরুরি অবস্থার মোকাবিলায় নিজস্ব উদ্যোগ নিয়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ভূমিকম্প ও সুনামি তরঙ্গের কারণে জনদুর্ভোগ সাময়িক হলেও ব্যাপক। প্রশাসন এবং উদ্ধারসংস্থাগুলো এলাকাবাসীকে দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় আরো কড়াকড়ি ও প্রস্তুতির আহ্বান শোনা যাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের মুখ থেকে।

ফিলিপাইনে সাম্প্রতিক এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ভূমিকম্প সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিতে দেশটির নাগরিকদের জন্য স্মরণীয় এক জাগরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিপাইনের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছে এবং নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছে।

Spread the love

By admin