
ঈদুল আজহা মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। ইসলামি শরিয়তে কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট কিছু পশুর অনুমতি রয়েছে, আবার কিছু ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির পশু অবশ্যই সুস্থ, সবল ও ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান পশু কোরবানি করতেন এবং উম্মতকেও সে ধরনের পশু বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
কোরবানির জন্য যেসব পশু বৈধ
ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোরবানির জন্য ছয় ধরনের পশু বৈধ বলে ধরা হয়। এগুলো হলো—
- গরু
- মহিষ
- উট
- ছাগল
- ভেড়া
- দুম্বা
বাংলাদেশে সাধারণত গরু ও ছাগল কোরবানি বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে উট ও দুম্বা কোরবানির প্রচলন বেশি রয়েছে।
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পশুর বয়সও নির্ধারিত রয়েছে। যেমন—
- ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে এক বছর বয়সী হতে হবে
- গরু ও মহিষের বয়স কমপক্ষে দুই বছর হতে হবে
- উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে
তবে কিছু ক্ষেত্রে ছয় মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা যদি দেখতে পূর্ণবয়স্ক মনে হয়, তাহলে সেটিও কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
কোরবানির পশুর যেসব গুণ থাকা জরুরি
ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, কোরবানির পশু হতে হবে—
- সুস্থ ও সবল
- মোটা ও মাংসল
- চোখ, কান ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিক আছে এমন
- চলাফেরায় সক্ষম
অর্থাৎ এমন পশু নির্বাচন করতে হবে যা দেখলে ভালো লাগে এবং যার মধ্যে বড় ধরনের কোনো শারীরিক ত্রুটি নেই।
যেসব পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ হবে না
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কিছু ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন—
- এক বা দুই চোখ অন্ধ পশু
- গুরুতর অসুস্থ পশু
- খোঁড়া বা ল্যাংড়া পশু
- অত্যন্ত দুর্বল ও কৃশকায় পশু
- কান বা লেজের বড় অংশ কাটা পশু
- দাঁতবিহীন পশু
- হাঁটতে অক্ষম পশু
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, পশুর ত্রুটি যদি এত বেশি হয় যে সেটি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারে, তাহলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ হবে না।
তবে ভালো ও সুস্থ পশু কেনার পর পরে কোনো ছোটখাটো ত্রুটি দেখা দিলে অনেক ক্ষেত্রে সেটি কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
এক পশুতে কতজন অংশ নিতে পারবেন
গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন মিলে কোরবানি দিতে পারবেন। তবে ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা কেবল একজনের পক্ষ থেকেই কোরবানি করা যায়।
ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও তাকওয়া অর্জন। তাই পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় বিধান মেনে চলাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
