বিবিসি বাংলা বা অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমের হুবহু কপি করা লেখা কোথাও প্রকাশ করলে কপিরাইট বা প্লেজিয়ারিজমের সমস্যা হতে পারে। তাই আপনার দেওয়া তথ্যগুলো ঠিক রেখে, একটি আকর্ষণীয় শিরোনামসহ পেশাদার নিউজ ফরম্যাটে খবরটি নিচে নতুন করে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
​জাতিসংঘে খলিলুরের ‘ছুটি’র পরিকল্পনা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিস্ময় ও গুঞ্জন
​ঢাকা, ২৬ মে: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পদত্যাগ না করে এক বছরের জন্য ‘বিশেষ ছুটি’ নেবেন— তার এমন অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ পাওয়ার পর সরকারের নীতিপ্রস্তুতকারক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব বাংলাদেশ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
​যেভাবে বিষয়টি সামনে এল
​গত ১৩ মে জাতিসংঘে আয়োজিত একটি অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সংলাপে অ্যান্ডোরার এক প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চান, ইউএনজিএ-র পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কি না।
​জবাবে খলিলুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি পদত্যাগ করছেন না। তিনি উল্লেখ করেন:
​”মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, জাতিসংঘে পূর্ণকালীন দায়িত্ব হিসেবে এই পদটি গ্রহণের জন্য আমাকে (মন্ত্রীত্ব থেকে) এক বছরের রেহাই বা ছুটি দেওয়া হবে।”
​মন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এই ছুটির পরিকল্পনাটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
​কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
​পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিশেষ ছুটির প্রস্তাবের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মহলে বড় ধরনের বিস্ময় ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া ও আইনি দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
​কর্মকর্তাদের বিস্ময়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তাই এই বিষয়ে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কারণ, এ ধরনের কোনো নজিরবিহীন ব্যবস্থার বা পরিকল্পনার বিষয়ে তারা আগে থেকে কিছুই জানতেন না।
​আইনি বৈধতা: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তের আইনি কোনো বাধা নেই। বাংলাদেশ সরকারের কার্যবিধি বা ‘রুলস অব বিজনেস’ (Rules of Business) অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য বা মন্ত্রীকে ছুটি দেওয়ার সম্পূর্ণ এখতিয়ার কেবল প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে।
​সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি একটি পূর্ণকালীন ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব হওয়ায়, একজন রানিং পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই সাথে ছুটিতে থেকে এই দায়িত্ব সামলাতে পারেন কি না— তা নিয়ে এখন খোদ কূটনৈতিক পাড়াতেই নানামুখী আলোচনা চলছে।