নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেনছবি: মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকার এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং অক্টোবরে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
বোয়িংয়ের পর এয়ারবাস
এয়ারবাসের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর ফলে বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট চুক্তিবদ্ধ উড়োজাহাজের সংখ্যা ২৫টিতে দাঁড়িয়েছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, চুক্তি স্বাক্ষর করলেই সব উড়োজাহাজ তাৎক্ষণিকভাবে বহরে যুক্ত হবে না। বোয়িংয়ের চুক্তির আওতায় প্রথম উড়োজাহাজ ২০৩১ সালে আসার কথা রয়েছে এবং পুরো সরবরাহ শেষ হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা
বিমানমন্ত্রী জানান, আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছরে দেশের এভিয়েশন খাত কোথায় যেতে পারে, সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোন ধরনের উড়োজাহাজ দেশের জন্য উপযোগী হবে, সেটি বিবেচনা করেই কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বিমানবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এয়ারবাসের প্রস্তাবিত ১০টি উড়োজাহাজের মধ্যে চারটি A350-900 এবং ছয়টি A321neo মডেলের উড়োজাহাজ থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে বিমান বাংলাদেশের বহর আরও বড় হবে।
এভিয়েশন খাত শক্তিশালী করার লক্ষ্য
বিমানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি উদাহরণ হিসেবে ইথিওপিয়ার এয়ারলাইনস খাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশটির অর্থনীতির আকার বাংলাদেশের তুলনায় ছোট হলেও তাদের বিমানবহর বড় এবং এভিয়েশন খাত থেকে তারা উল্লেখযোগ্য অবদান পাচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS) ও অন্যান্য প্রকাশিত প্রতিবেদন।
