নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ইসিবি চত্বরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাও এর মধ্যে রয়েছে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও বিভিন্ন পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ ও সম্পৃক্ততা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য এসেছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্টুডিওতে হামলা
মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনাগুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ঘটনার পর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার কথা জানিয়েছে সরকার।
সরকারের বক্তব্য
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা বা সম্পত্তির ক্ষতি হলে সরকার বিষয়টি নিয়ে দুঃখিত ও বিব্রত। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
ঘটনাগুলোর কয়েকটিতে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভিন্ন বক্তব্যও রয়েছে। ফলে কারা কীভাবে ঘটনায় যুক্ত ছিল, তা নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা
পরপর কয়েকটি ঘটনার কারণে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়েও বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
