সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক

আল-জাজিরার প্রতিবেদন ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সীমিত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা পুতিনের

1 min read 2 views
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সীমিত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থামানোর বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সীমিত করার মতো কোনো সমঝোতায় এখনই যেতে রাজি নয় মস্কো। তাঁর দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে চাপে পড়েই কিয়েভ এমন প্রস্তাব দিয়েছে।

রোববার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, প্রায় ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনীয় বাহিনী কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। সেই কারণেই তারা দূরপাল্লার হামলা বন্ধের প্রস্তাব তুলেছে বলে তাঁর ধারণা।

পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পাল্টা হামলা ইউক্রেনের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে। তাই কিয়েভ সামরিক চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখা রাশিয়ার কোনো লক্ষ্য নয়।

তবে এ বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। কিয়েভ সত্যিই এমন কোনো প্রস্তাব দিয়েছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি।

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রুশ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার স্লাভিয়ানস্ক ও ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের দুটি তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, এসব অভিযান রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করার কৌশলের অংশ।

হামলার পর ক্রাসনোদর অঞ্চলের গভর্নর জানান, একটি তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং আশপাশের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা জেলেনস্কির

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে ইউক্রেন ভবিষ্যতেও একই ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে। তাঁর মতে, প্রতিটি সফল হামলা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে আরও সীমিত করবে।

গত কয়েক সপ্তাহে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ড্রোন হামলাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ পুতিন

যদিও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো বারবার হামলার মুখে পড়ছে, তবুও পুতিন দাবি করেন, এসব হামলা যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ফেলছে না। তাঁর অভিযোগ, ইউক্রেন মূলত রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ও পর্যটন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছে।

তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় রাশিয়াকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হচ্ছে। এজন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

কেন প্রস্তাব মানছেন না পুতিন?

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে রাশিয়া এখনো স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে। তাই এই সামরিক সুবিধা স্বেচ্ছায় সীমিত করার কোনো আগ্রহ পুতিনের নেই।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত অবস্থান অনুকূলে থাকা পর্যন্ত রাশিয়া দূরপাল্লার হামলা বন্ধ বা সীমিত করার বিষয়ে সমঝোতায় যাবে না। ফলে স্বল্পমেয়াদে শান্তি আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছেন তারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *