আন্তর্জাতিক ডেস্ক | JatioVoice

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে হামলার ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর আগের দিন বিমানবন্দর এলাকায় হামলায় প্রাণহানি ও ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া যায়। এদিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, রোববার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের আশপাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জোট বাহিনী। দেশটির পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন এবং খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করার কথা জানানো হয়েছে।
পরপর হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিমানবন্দর বন্ধ রাখার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাময়িকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলার খবর
সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রোববার রাতে বিমানবন্দরের টারমাকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর আগুন দেখা যায়। এ সময় কয়েকটি উড়োজাহাজের পাশে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। নিরাপত্তার কারণে একটি উড়োজাহাজকে গেটে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং যাত্রীদের নামিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়।
ফ্লাইট চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর দাম্মাম বিমানবন্দরে কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত ও বাতিল হয়েছে।
হামলার দায় স্বীকার হুতিদের
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি রিয়াদে শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর দুটি স্থাপনাও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি সরকার ও সৌদি আরামকোর পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এর আগে হুতিরা সৌদি বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করে। তাদের বক্তব্য, এই সতর্কতা উপেক্ষা করা হলে তার পরিণতির দায় সৌদি আরবকে নিতে হবে।
আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তারের আশঙ্কা
ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সৌদি বাহিনী হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীকে সহায়তা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হুতি-নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষের দাবি, ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদি আরবের ১২৪টি বিমান হামলা হয়েছে। এই দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের কয়েকটি বিমানবন্দর ছাড়া অন্য বিমানবন্দর ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও সৌদি আরবের আকাশসীমায় বা এর ওপর দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে মার্কিন এয়ারলাইনসগুলোকে সতর্ক করেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে সহায়তা দিতে তেহরান প্রস্তুত। তবে চলমান হামলা ও পাল্টা হামলার মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা অগ্রসর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: রয়টার্স
JatioVoice | দেশ-বিদেশের খবর জানতে চোখ রাখুন jatiovoice.com-এ।

