আন্তর্জাতিক ডেস্ক | JatioVoice
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের কাছে মার্কিন সামরিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, এসব সামরিক পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের উপকূল থেকে আরও দূরে সরে গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আগের অবস্থান থেকে সরে আরব সাগরের আরও গভীর অংশে অবস্থান নিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
হরমুজ দিয়ে আবার বাড়ছে তেল পরিবহন
উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হচ্ছে। অন্য একটি মার্কিন হিসাব অনুযায়ী, পরিমাণটি প্রতিদিন ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলের মধ্যে হতে পারে।
তবে যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় এই পরিবহন এখনো কম। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়ে থাকতে পারে। গত সপ্তাহে ১৯টি তেলবাহী ট্যাংকার এই জলপথ অতিক্রম করেছে বলেও প্রতিষ্ঠানটির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের অবস্থান
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে জলপথটির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ইরানের তেল রপ্তানি নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দাবি অনুযায়ী, অবরোধের কারণে ইরানের সমুদ্রে থাকা তেলের মজুত সীমিত হয়ে এসেছে এবং সেখান থেকে চীনে তেল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল পরিবহন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ওমান, কাতার, কুয়েত ও ইরানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বরে বেড়েছে। এ সময় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল তেল অঞ্চলটি থেকে রপ্তানি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলক পুরোনো বা কম মূল্যবান তেলবাহী জাহাজ ব্যবহার করে তেল সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখার মতো পদ্ধতিও ব্যবহারের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ সমঝোতার ক্ষেত্রে আগের কিছু সমঝোতা ও ওমানের সঙ্গে করা চুক্তিকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে চায়। এসব আলোচনার সঙ্গে হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ও যুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাও রয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা; প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রসমূহ।

