
সাভার প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানি শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা চামড়াশিল্প নগরে কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক ও পিকআপভ্যানে করে চামড়া নিয়ে আসেন ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক বিক্রেতা।
বিসিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত শিল্পনগরে প্রায় ৭৯ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।
চামড়াশিল্প নগরের বিভিন্ন ট্যানারিতে দেখা গেছে, শ্রমিকেরা দ্রুত ট্রাক থেকে চামড়া নামিয়ে সংরক্ষণের কাজ করছেন। কেউ লবণ দিচ্ছেন, কেউ আবার চামড়ার গুণগত মান যাচাই করছেন। কোরবানির পর দ্রুত সংরক্ষণ না করলে চামড়ার মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে চামড়া বিক্রি করতে আসা অনেকেই অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারদরের মিল নেই। তাঁদের দাবি, বাস্তবে প্রতি পিস গরুর চামড়ার দাম অনেক কম বলা হচ্ছে।
নয়ারহাট এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, তাঁরা ১৩২ পিস চামড়া নিয়ে এসেছেন। কিন্তু আড়তে প্রতি পিস ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই চামড়া ব্যবসায় একটি অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে।
ধামরাই থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা আরেক বিক্রেতা জানান, গত বছর যে চামড়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার সেই চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বলা হচ্ছে।
তবে কিছু ব্যবসায়ী তুলনামূলক বেশি দামেও চামড়া বিক্রি করতে পেরেছেন। রাজধানীর আগারগাঁও থেকে আসা হাফেজ মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, দরদামের পর তাঁরা প্রতি পিস চামড়া ৬৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর প্রায় ১ কোটি পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ, লবণ দেওয়া, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রতি পিসে অতিরিক্ত ব্যয় হয়। সে কারণে বাজারদর নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভালোভাবে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হলে চামড়ার দাম তুলনামূলক বেশি পাওয়া সম্ভব। গুণগত মান ভালো থাকলে কিছু চামড়া ১ হাজার টাকার বেশি দামেও বিক্রি হতে পারে।
বিসিক চামড়াশিল্প নগরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান বলেন, চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর একযোগে কাজ করছে।
