নিজস্ব প্রতিবেদক | JatioVoice.com
পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে আশুরার তাজিয়া মিছিলের সময় নিহত পরিচ্ছন্নতা কর্মী জাকির হোসেনের মৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবারের সদস্যরা। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এই যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জাকির হোসেন ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ। কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াতেন না এবং শিশুদের মতো সরল মানসিকতার ছিলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।
নিহতের ছোট ভাই মো. শুভ বলেন, “আমার ভাই ছিল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। কারও কোনো ক্ষতি করত না। কী অপরাধ ছিল তার, যে এভাবে তাকে হত্যা করা হলো?”
পরিবার জানায়, ২৬ জুন আশুরার দিন বিকেলে বাংলাবাজারের পি কে রায় সড়কে হামলার শিকার হন ৩১ বছর বয়সী জাকির। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আশুরার তাজিয়া মিছিলে ডুলির রশি ধরা নিয়ে জাকিরের সঙ্গে কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে একটি ভবনের নিচে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হামলায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় জাকিরের পরিবার। নিহতের ভাইয়ের দাবি, জাকিরের সঙ্গে আরও কয়েকজন একই মিছিলে ছিলেন এবং তারাও রশি ধরেছিলেন। তাহলে শুধুমাত্র জাকিরকেই কেন লক্ষ্য করে হামলা করা হলো— সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, তার ভাই কখনও একা বাইরে যেতেন না। ঘটনার দিনও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ছিলেন। তাই পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বজনদের দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
